OrdinaryITPostAd

শিশুর জ্বর হলে করণীয় -শিশুর জ্বর কমানোর কিছু উপায়

দিনে কয়টি ডিম খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো

বর্তমানে বাবা-মায়ের কাছে একটি আতঙ্কের নাম হল শিশুর  জ্বর । বর্তমানে নানান আবহাওয়ার কারণে শিশুরা প্রতিনিয়ত অসুস্থ হয়ে পড়ছে। নিজের সন্তানের শারীরিক অসুস্থতায় বাবা-মায়ের জন্য সবচেয়ে চিন্তার বিষয় হলো এটি। অনেক সময় কোমলমতি সন্তানের এ পরিস্থিতি দেখে ঘাবড়ে যায় বাবা-মা।

কিভাবে কি করলে শিশু সুস্থ থাকবে এ নিয়ে সারাক্ষণ চিন্তা করতে থাকেন বাবা-মা। চলুন  তাহলে আজকে জেনে নেওয়া যাক কিভাবে আপনার শিশুর জ্বর হলে সঠিক পরিচর্যা করবেন এবং কিভাবে সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে আপনার শিশুর জ্বর তাড়াতাড়ি সেরে উঠবে। 

সূচিপত্র: শিশুর জ্বর হলে করণীয়

শিশুর জ্বর

শিশুর জ্বর খুবই স্বাভাবিক একটি রোগ। যদিও জ্বর কোন রোগ নয় ।এটি শিশু থেকে বড় কমবেশি সকলেরই হয়ে থাকে। কিন্তু সবথেকে বেশি চিন্তা হয় যখন নিজের অতি আদরের সন্তানটি অসুস্থ হয়ে যায়। শিশুর বয়স অনুযায়ী জ্বরের লক্ষণ ভিন্ন হতে পারে। সাধারণত শিশুর শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৯৮.৪° থেকে ৯৯° ফারেনহাইট। যখন তাপমাত্রা ১০০.৪° ফারেনহাইট উপরে উঠে যায় তখন সেটি জ্বর হিসেবে ধরা হয়। ১০২° ফারেনহাইট জ্বর মানে শিশু শরীরে কোন সংক্রমণ প্রতিক্রিয়া চলছে। অনেক সময় এক্ষেত্রে শিশুদের হঠাৎ জ্বর দেখলে বাবা-মা ভয় পেয়ে যান, কিন্তু সব সময় আতঙ্কিত হওয়ার কোন দরকার নেই। বরং শিশুর আচরণ, খাওয়ার অভ্যাস, ঘুম ও শ্বাস প্রশ্বাস নজরদারি করাটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। জ্বরের সময় শিশুর সঠিক পরিচর্যা করলে খুব তাড়াতাড়ি শিশুর জ্বর থেকে মুক্ত হতে পারে এবং স্বাভাবিক জীবন যাপনে ফিরতে পারে। এক এক বয়সী শিশুর পরিচর্যা একেক রকম হয়। তবে এটা সব সময় মাথায় রাখতে হবে ,চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে থেকে কোন এন্টিবায়োটিক দিতে যাবেন না। বাচ্চার বয়স, ওজন এগুলো না জেনে কোন প্রকার ওষুধ খাওয়াবেন না। এতে অনেক সময় হিতের বিপরীত হতে পারে। শিশুর জ্বর হলে শুরুতেই ঘাবড়ে না গিয়ে ঘরোয়া কিছু পদ্ধতি ব্যবহার করুন। যেমন সুতির কাপড় পরান ,প্রচুর তরল খাবার দিন এবং কুসুম গরম পানিতে কাপড় ভিজিয়ে শরীর মুছে দিন। শরীর মুছে দেওয়ার সময় অবশ্যই মাথায় রাখবেন পানিটা যেন কুসুম গরম পানি হয়। এতে করে শিশুর শরীর কিছুটা স্বস্তি পায়। অনেক সময় জ্বরের সাথে সাথে আরও বেশ কিছু উপসর্গ বা লক্ষণ দেখা দিতে পারে যেমন :পায়খানা ,বমি হওয়া, সর্দি- কাশি বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি। শিশুর জ্বর কখন ,কতটুকু আছে সেটা দেখার জন্য অবশ্যই থার্মোমিটার ব্যবহার করুন। ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইট এর উপরে জ্বর চলে গেলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

শিশুর জ্বর বেশি হলে কি করবেন

বাচ্চার শরীরের তাপমাত্রা যখন ১০২° বা তার বেশি চলে যায় তখন সেটাকে অতিরিক্ত জ্বর বলা হয়। অনেক সময় এটি ভাইরাস জনিত কারণেও হতে পারে। সেক্ষেত্রে এই জ্বর তিন থেকে সাত দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয় এবং শিশু শরীরকে অনেক বেশি দুর্বল করে দেয়।সেক্ষেত্রে আতঙ্কিত না হয়ে অবশ্যই শান্ত থাকুন। শিশুর জ্বর কমাতে সাথে সাথে কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন। এতে করে শিশু কিছুটা স্বস্তি পাবে এবং তার জ্বরের তাপমাত্রাও কমতে থাকবে।শিশুকে স্পঞ্জিং করার সময় অবশ্যই কুসুম গরম পানি দিয়ে শরীর মুছার চেষ্টা করুন ।ঠান্ডা পানি বা বরফ ব্যবহার করবে না ।এতে শরীর কাঁপতে পারে এবং জ্বর আরো বেড়ে যেতে পারে। শিশুকে পাতলা সুতির পোশাক পরাণ । 


এতে করে শিশুর শরীরে বাতাস চলাচল করবে। মোটা কম্বল বা লেপ দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। শিশুকে বেশি বেশি তরল খাবার দিন। পানি শূন্যতা রোধ করতে বারবার পানি বা ফলের রস খাওয়ান। এটি শিশুর শরীরকে ঠান্ডা রাখবে এবং নিস্তেজ হওয়া থেকে বাঁচাবে। শিশুকে এমন পরিবেশে রাখুন যেখানে সে মুক্তভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পারে। তার শরীরে যাতে ঠান্ডা বাতাস চলাচল করতে পারে। ঘর ঠান্ডা ও বাতাস চলাচলের উপযুক্ত রাখুন। ফ্যান বা এসি মাঝারি গতিতে চালাতে পারেন। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে অবস্থা খুব বেগতিক হয়ে পড়ে। 
কখন দ্রুত ডাক্তারের কাছে যাবেন
১.যদি শিশুর জ্বর ১০২° ফারেনহাইট বেশি হয় 
২.ওষুধ খাওয়ার পরও না কমে
৩.তিন দিনের বেশি সময় ধরে জ্বর থাকলে
৪.বাচ্চা যদি খুব বেশি দুর্বল হয়ে পড়ে, অদ্ভুত আচরণ করে বা অতিরিক্ত ঘুমায় 
৫. জ্বরের সাথে খিঁচুনি হলে 
৬. শ্বাসকষ্ট বা বারবার বমি হলে. 
এই ধরনের লক্ষণ গুলো দেখা দিলে শিশুর জ্বর অনেক বেশি বাড়তে পারে এবং সাথে যদি অন্যান্য গুরুতর লক্ষণও দেখা দেয় তবে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। 

শিশুর জ্বর ১০২° হলে কি করবেন

শিশুর জ্বর সাধারণত শরীরের ভেতরে সংক্রমনের প্রাকৃতিক প্রতিক্রিয়া। ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ,দাঁত ওঠা , টিকা দেওয়ার পরেও অনেক সময় শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যেতে পারে এবং শিশুর জ্বর আসতে পারে। অনেক সময় ঘরোয়া পদ্ধতিতেই শিশুর জ্বর সেরে যায় কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে জ্বর কিছুটা বেড়ে যেতে পারে। চলুন নবজাতক থেকে পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুর জ্বর ১০২° ফারেনহাইট হলে কি করবেন জেনে নেয়া যাক।

*নবজাতকের যত্ন:

১. নবজাতক শিশু এখনো খুব ছোট। এ বয়সে তার প্রতিরোধ ক্ষমতা পুরোপুরি গড়ে উঠে না তাই ১০২° ফারেনহাইট জ্বর হলে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া দরকার ।যা করবেন:

১.শিশু শরীরের তাপমাত্রা প্রতি চার ঘন্টা পর পর থার্মোমিটারে মাপুন। 

২. বেশি কাপড় বা মোটা কম্বল দিবেন না। হালকা নরম পোশাক পরান 

৩.ঘরের তাপমাত্রা ঠান্ডা রাখুন ফ্যানের নিচে রাখলেও সমস্যা নেই যদি বাতাস সরাসরি মুখে না লাগে 

৪.বুকের দুধ বেশি করে খাওয়ান কারণ এই বয়সে মায়ের দুধে শিশুর মূল খাদ্য ও পানির উৎস 

৫.প্রয়োজনে ভেজা কাপড় দিয়ে শিশুর কপাল গলা ও হাতের পাতায় পট্টি দিন যদি জ্বরের সাথে খাওয়ার অনীহা, নিস্তেজ ভাব , বা শ্বাসকষ্ট দেখা যায় তবে দ্রুত শিশু বিশেষজ্ঞর কাছে নিয়ে যান।

*তিন মাস থেকে এক বছর বয়সী শিশুর যত্ন: এই বয়সে  শিশুর শরীরে অনেক পরিবর্তন আসে যা হালকা জ্বরের কারণ হতে পারে। সাথে থাকতে পারে ভাইরাল ইনফেকশন, কফ,ঠান্ডা ইত্যাদি। সুস্থ রাখতে যা করবেন

১. শিশুকে বেশি করে পানি ফলের রস বা বুকের দুধ ডিম যেন শরীর পানি শূন্য না হয়

২. শিশুর শরীর মুছে ঠান্ডা রাখুন কিন্তু বরফ বা ঠান্ডা পানি ব্যবহার করবেন না

৩. যদি ১০২ ডিগ্রী জ্বর ২৪ ঘন্টার বেশি স্থায়ী হয় বা শিশুর শরীর গুটি গুটি দানা, কান্না থামছে না অথবা খাওয়ায় অনীহা 

দেখা দেয় তাহলে দেরি না করে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

৪. ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া প্যারাসিটামল সিরাপ বা অন্য কোন ওষুধ নিজে থেকে দেবেন না। 

*দুই থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুর যত্ন: এ বয়সে শিশু একটু একটু বড় হয়। যার কারণে শিশু শরীরে নানান পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। এ বয়সে শিশুরা একটু বেশি ভাইরাল ইনফেকশন ,নিউমোনিয়া বা অন্যান্য ইনফেকশনে আক্রান্ত হয়। সে ক্ষেত্রে যা করবেন: 

১. শিশুকে আরামদায়ক হালকা পোশাক পরান

২. বারবার পানি, ডাবের পানি ও ফলের রস দিন

৩. শরীরে ভেজা কাপড় দিয়ে রাখুন। মূলত কপালে ও গলায়

৪. যেকোনো পাতলা খাবার খেতে দিন। বেশি বেশি মুরগির ঝোল ,মাছের ঝোল , সবজির সুপ, ডিমের সুপ ইত্যাদি খাবার খেতে দিন।

৫. অবশ্যই ওজন অনুযায়ী প্যারাসিটামল সিরাপ দিন। 

৬. দুই দিনের বেশি জ্বর স্থায়ী হলে শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যান।

কোন পরামর্শই ডাক্তারি সেবার উপরে নয়। তাই যে কোন কাজ করার ক্ষেত্রে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে করবেন। 

শিশুর জ্বর ১০৪° ডিগ্রি হলে কি করবেন 

শিশুর শরীরের তাপমাত্রা ১০৪° মানে এখন তার অনেক বেশি তাপমাত্রার জ্বর। এমন পরিস্থিতিতে  শরীর একদম নিস্তেজ হয়ে যেতে পারে। পানি শূন্যতা ,রক্তশূন্যতা দেখা দিতে পারে। এমন অবস্থায় আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থেকে অবশ্যই কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। তার মধ্যে অন্যতম হলো অতি দ্রুত শরীরের তাপমাত্রা কমানোর ব্যবস্থা নিন। তাপমাত্রা ১০৪ ডিগ্রি বহাল থাকলে অনেক সময় শরীরে খিচুনি ধরা দিতে পারে। যা শিশুকে মৃত্যুর দিকেও ঠেলে দিতে পারে। তাড়াতাড়ি শিশুর শরীরের তাপমাত্রা কমানোর চেষ্টা করুন ।সাধারণ তাপমাত্রার পানিতে কাপড় ভিজিয়ে শিশুর কপাল, বগল এবং হাত-পা বারবার মুছে দিন। কখনোই খুব ঠান্ডা পানি ব্যবহার করবেন না এতে শরীরের তাপমাত্রা আরো বেড়ে যেতে পারে। যদি সম্ভব হয় তবে শিশুকে হালকা কুসুম গরম পানিতে পাঁচ থেকে দশ মিনিট স্পঞ্জ করে দিন বা গোসল করিয়ে দ্রুত শরীর মুছে ফেলুন এতেও শরীরের তাপমাত্রা অনেকটা কমে যায়।


 শিশুকে এমন রুমে রাখুন যেখানে পর্যাপ্ত আলো বাতাস ঢুকতে পারে। ঘরের জানালা খুলে দিন বা হালকা গতিতে ফ্যান ছেড়ে দিন। যেন বাতাস চলাচল করতে পারে। তবে সরাসরি বাতাসের নিচে শিশুকে রাখবেন না ।শিশুকে মোটা কাপড় বা কম্বল দিয়ে মুড়িয়ে রাখবেন না ।পাতলা সুতির কাপড় পরিয়ে দিন যেন শরীরের তাপ সহজে বের হতে পারে। ঘর যেন খুব বেশি গরম বা খুব বেশি ঠান্ডা না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখুন।
এরকম অধিক তাপমাত্রার জ্বরে শিশুর শরীর পানি শূন্য হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে তাই তাকে বারবার তরল খাবার দিন। যদি বুকের দুধ খায় বুকের দুধ দিন। বেশি করে পানি ,খাবার স্যালাইন ,ফলের রস বা ডাবের পানি পান করতে দিন।
*কখন শিশুকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাবেন: 
১. খিচুনি হলে
২. শিশু যদি অস্বাভাবিক নিস্তেজ হয়ে পড়ে বা একেবারে খেতে না চায়
৩. শ্বাসকষ্ট হলে বা খুব দ্রুত শ্বাস নিলে
৪. শরীরে কোন ধরনের লালচে দাগ দেখা দিলে
৫. টানা বমি করলে
৬. অঝোরে কাঁদতে থাকলে বা তাকে শান্ত করা না গেলে। 

সব সময় মনে রাখবেন, জ্বর কমানোর প্রাথমিক চেষ্টার পাশাপাশি আপনার অবশ্যই শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া উচিত। কোন ডাক্তারি পরামর্শ ছাড়া শিশুকে কোনরকম ওষুধ দিতে যাবেন না। ১০৪ ডিগ্রি জ্বর অবশ্যই ইনফেকশন এর লক্ষণ। তাই এর সঠিক কারণ নির্ণয় করা জরুরী। 

শিশুর জ্বর ও বমি একসাথে হলে করণীয়

শিশুর জ্বর হলে একাধিক উপসর্গ দেখা দিতে পারে। যেমন সর্দি -কাশি ,বমি ইত্যাদি। শিশুর জ্বর হলেই শিশুর শরীর দুর্বল হয়ে যায় এবং সাথে যদি অন্যান্য উপসর্গ দেখা দেয় সে ক্ষেত্রে বিষয়টা কিছুটা চিন্তার হতে পারে। কিন্তু এক্ষেত্রেও আমরা কিছু ঘরোয়া উপায় ব্যবহার করে শিশুকে স্বস্তি দিতে পারি। অনেক সময় জ্বরের সাথে বমি হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। বমির কারণে শরীর দ্রুত পানির অভাব দেখা দিতে পারে ।তাই শরীর হাইড্রেট রাখা প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। এজন্য শিশুকে একবারে বেশি পানি বা দুধ না খাইয়ে প্রতি ৫ থেকে ১০ মিনিট পরপর এক দুই চামচ করে খাবার স্যালাইন ,ডাবের পানি বা বুকের দুধ খাওয়াতে পারেন। শিশু অনেক বেশি বমি করলে খাবার কিছুটা দেরিতে দিন। সাথে সাথে শিশুকে খাবার দিবেন না এতে করে শিশু অস্বস্তি বোধ করতে পারে। শিশু বমি করলে অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। তারপর আবার অল্প অল্প করে তরল খাবার দেওয়া শুরু করুন। জ্বরের জন্য বরাবরই শিশুর যত্ন নিন। শিশু যদি একদমই খেতে না চায় তবে জোর করবেন না। তরল খাবারের উপর জোর দিন। অবশ্যই মনে রাখবেন জ্বর ও বমির সময় শরীর খুব ক্লান্ত হয়ে পড়ে তাই শিশুকে পর্যাপ্ত বিশ্রামে থাকতে দিন। 
তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে লক্ষণ বেশি বেড়ে গেলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। সেক্ষেত্রে যদি শিশুর জিব্বা ও মুখ শুকিয়ে যায়, প্রস্রাব কমে যায় , এতে শিশু খুব নিস্তেজ হয়ে পড়ে। তাহলে আর দেরি না করে অবশ্যই শিশুকে নিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোন প্রকার বমির ওষুধ বা এন্টিবায়োটিক শিশুকে খাওয়াবেন না। 

শিশুর জ্বর হলে কি খাবার দিতে পারেন

বর্তমানে আবহাওয়ার কিছু পরিবর্তন এর ফলে বড়দের পাশাপাশি শিশুরাও অসুস্থ হয়ে পড়ছে। কখনো খুব গরম আবার কখনো বৃষ্টির কারণে হালকা ঠান্ডা লাগছে। বিশেষ করে শিশুরা জ্বর ঠান্ডায় আক্রান্ত হচ্ছে ।এ সময় শিশুর জ্বর হলে ভয় পাবেন না। জ্বর হলে মুখের স্বাদ কিছুটা পরিবর্তন হয়। ফলে শিশুর খাবারে অনিহা দেখা দেয় এ সময় সাধারণ খাবার দিন শিশুকে ।সেসঙ্গে কয়েকটা খাবার বেশি দেওয়ার চেষ্টা করুন। এতে করে সুস্থ হওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন পুষ্টি গুলো শিশু পেয়ে যাবে।জ্বরের সময় শিশুদের মুখে কিছুটা অরুচি দেখা দিতে পারে। এক্ষেত্রে চিকেন সুপ শিশুরা খেতে খুব বেশি পছন্দ করে কারণ এমনিতে শিশুরা মুরগির মাংস খুব বেশি পছন্দ করে। আর এর থেকে তৈরি নাস্তা শিশুদের খুব বেশি প্রিয়। তাই অবশ্যই এটি ট্রাই করতে পারেন।ডাবের পানি এ সময় শরীর এর জন্য বেশ উপকারী। কারণ এ সময় শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে পানি বেরিয়ে যায়। তাই শিশুকে ডাবের পানি খাওয়ালে শিশুর নানান ভারসাম্য আবার আগের মত ফিরে আসবে। শিশুকে দিতে পারেন কিছুটা মধু। এতে আছে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল অনেকগুণ। যার কারণে মধু খেলে শরীরে উপস্থিত ব্যাকটেরিয়া নষ্ট হয়ে যায় ।শুধু তাই নয় এই মিষ্টির গুণে বাড়ে শরীরের ইমিউনিটি যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।ডিমে রয়েছে প্রোটিনের ভান্ডার ।যে কারণে ডিম খেলে বাড়ে ইমিউনিটি ।তাই জ্বরের সময় শিশুকে খাওয়াতে পারেন সিদ্ধ ডিম ।তবে এই সময় তাকে ডিমের পোচ বা ডিমের ওমলেট খাওয়াবেন না।শিশুকে অবশ্যই তাজা ফলমূল খেতে দিন ।নরম ,রসালো ফল যেমন তরমুজ, কমলা লেবু ,আঙ্গুর এগুলো শরীরকে শুধু হাইড্রেট করে না বরং অনেক ভিটামিন ও দেয়। ফলের রস আমাদের শরীরে পানি এবং ভিটামিন খনিজ লবণ ইত্যাদি সকল কিছু চাহিদা পূরণ করে। অনেক সময় শিশু খাবার খেতে চায় না তবে শিশুর খাদ্যের রুচি অনুযায়ী শিশুকে বিভিন্ন ধরনের খাবার বানিয়ে দিতে পারেন। যেহেতু জ্বর হলে মুখের স্বাদ ও রুচি নষ্ট হয়ে যায় তাই শিশু বেশি কিছু খাবার খেতে চায় না ।এতে অনেক অভিভাবক অনেক বেশি দুশ্চিন্তা করেন। এটা দুশ্চিন্তার কোন কারণ নেই। শিশু যতটুকু যেটা খেতে চাই শিশুকে সেটাই খেতে দিন ।এতে করে শিশু বেশি নিস্তেজ হয়ে পড়বে না। এবং খাবারে তেমন একটা অনীহা ও দেখা যাবে না।

শিশুর জ্বর হলে পানি শূন্যতা না হওয়ার উপায় 

জ্বরের সময় শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে ঘাম এবং দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে শরীর থেকে অনেক পানি বেরিয়ে যায়। যার কারণে অনেক সময় হতে পারে পানি শূন্যতা। পানিশূন্যতা দূর করতে শুধু পানি পান করলে চলবে না বরং নিতে হবে আরো অনেক পদক্ষেপ। কারন এই সময় শুধু পানি বের হয় না সাথে বের হয়ে যায় শরীরের প্রয়োজনীয় লবন। এ লবণ পূরণ করতে শরীরের সবথেকে কার্যকর হলো খাবার স্যালাইন। পানি শূন্যতার রোধে এটি সবচেয়ে কার্যকর উপায়।বমি বা পাতলা পায়খানা না থাকলেও জ্বরের সময় অল্প অল্প করে বারবার স্যালাইন খাওয়ানো উচিত।
বেশি বেশি ডাবের পানি খাওয়াতে পারেন এতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম ও সোডিয়াম থাকে যা শরীরকে দ্রুত এনার্জেটিক করে।
বাড়িতে তৈরি ফলের রস দিতে পারেন। এতে শরীরের ভিটামিন সি এবং তরল উভয়টাই পূরণ হয়। 
চিকেন বা সবজি সুপ দিতে পারেন এটি রুচি ফেরাতে সাহায্য করে। পাতলা খিচুড়ি , ভাতের মার দিতে পারেন এটি সহজে হজম হয় এবং শরীরের শক্তি যোগায়।
শরীরে স্বস্তি আনার জন্য অতিরিক্ত ঠান্ডা বা অতিরিক্ত গরম পানি দিবেন না।
জ্বরের সময় যদি কোনো কারণে পানি বা তরল খাবার একদমই পেটে না থাকে বা অতিরিক্ত বমি হয় সেক্ষেত্রে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে বা প্রয়োজনে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে স্যালাইন নিতে হতে পারে। 

শিশুর জ্বর হলে ঘরোয়া উপায়

শিশুরা প্রায়ই কম বেশি জ্বরে ভোগে।আগেকার দিনে আমাদের মায়েরা জ্বর বা অন্যান্য সকল রোগের ক্ষেত্রে কিছু ঘরোয়া উপায় ব্যবহার করতেন। বিশেষ করে জ্বরের সময় অনেক বেশি জলপট্টি দিতেন বা মাথা ধুয়ে দিতেন। আরো বেশ কিছু ঘরোয়া উপায় ব্যবহার করতেন। সময়ের ব্যবধানে আজ সকল উপায় বিলুপ্ত। কিন্তু এখনো সে সকল ঘরোয়া টোটকা অনেক বেশি কাজে দেয়। বর্তমানে অনেকেই দ্রুত সেরে ওঠার জন্য নিজের মতন ওষুধ দেন যা মোটেও ঠিক নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কোন ওষুধ দেওয়া বা খাওয়া কোনটাই উচিত নয়।জ্বরের সময় কুসুম গরম পানিতে ভেজানো জলপট্টি এবং মাথা ধুয়ে দেওয়া শরীরের তাপমাত্রা অনেক বেশি কমিয়ে দেয় এবং জ্বর কমাতে সাহায্য করে। এক্ষেত্রে এক টুকরো কাপড় হালকা কুসুম গরম পানিতে ভিজিয়ে কপালের উপর ধরে রাখুন কিছুক্ষণ পর সেটি তুলে আবার পানিতে দিয়ে তা থেকে সামান্য পানি ফেলে দিয়ে আবার কপালের উপর ধরুন। আশা করা যায় ভালো ফল পাবেন। শিশুদের সর্দি ঠান্ডা জন্য সরিষার তেল হালকা গরম করে মালিশ করলেও এটি খুব ভালো কাজ দেয়। হালকা কুসুম গরম পানিতে মধু মিশিয়ে খেলে কাশির জন্য বেশ উপকারী। তুলসী, বাসক পাতা এগুলো রস ও শিশুর কাশির জন্য অনেক বেশি উপকার। শিশুদের কাশির জন্য মধু ও লেবুর মিশ্রণ ও চমৎকার কাজ করে। এটি তৈরি করতে প্রথমে এক চামচ মধু এবং অর্ধেক লেবুর রস নিন। এরপর এক গ্লাস সামান্য গরম পানিতে মধু ও লেবুর রস মিশিয়ে শিশুকে পান করান। এতে করে শরীরের খারাপ ব্যাকটেরিয়া গুলো নিমেষে ধ্বংস হয়ে যাবে। এটি বড়দের ক্ষেত্রেও খুব কার্যকরী ।শরীর ঠান্ডা রাখতে শিশুকে আরামদায়ক ,হালকা কাপড় পরান । নবজাতক হলে বেশি বেশি বুকের দুধ দিন। যেহেতু এক থেকে ছয় মাস বয়সী শিশু বুকের দুধ ছাড়া অন্য কোন খাবার বা পানিও খেতে পারে না তাই নবজাতকের শরীর যাতে পানি শূন্য না হয় সেদিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে।শরীর ঠান্ডা রাখতে শিশুকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে দিন। অবশ্যই থার্মোমিটার ব্যবহার করে সঠিক তাপমাত্রা মেপে দেখবেন।

শিশুকে নাপা বা সাপোজিটরি কখন দিবেন

শিশুর জ্বর এটি খুবই স্বাভাবিক। অনেক সময় ঘরের সেবায় শিশু সুস্থ হয়ে উঠতে পারে।কিন্তু বেশ কিছু ক্ষেত্রে এই জ্বর অতিমাত্রায় বেড়ে শিশুর অস্বস্তির কারণ হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী শিশুকে নাপা বা সাপোজিটরি দেওয়া যেতে পারে। সাধারণত শরীরের তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রীর উপরে চলে গেলে তখন সেটিকে জ্বর হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং নাপা বা প্যারাসিটামল দেওয়ার কথা চিন্তা করা যায় তবে নাপা বা সাপোজিটরি দেওয়ার কিছু নিয়ম-নীতি আছে। অনেক সময় শিশুর শরীর একটু গরম দেখলেই অভিভাবকেরা দুই থেকে তিন ঘন্টা পর পর প্যারাসিটামল দিয়ে দেন ।কিন্তু এতে লাভের চেয়ে ক্ষতি হয় আরও বেশি। শিশুর শরীরের সাথে ওষুধের মাত্রা বরাবর না হলে তখনই ঘটে বিপত্তি। সহজ হিসেবে, প্রতি ৮ কেজি ওজনের শিশুকে এক চামচ করে প্যারাসিটামল দেওয়া যায়।
তবে দিনে চারবারের বেশি এবং ৬০ মিলির অধিক প্যারাসিটামল না দেওয়াই ভালো। টানা তিন দিনের বেশি শিশুকে চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত কখনোই নাপা দিবেন না। ছোট শিশুদের মুখে সিরাপ দেওয়াই ভালো।সকল ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

বয়স, ওজন সকল কিছু বিবেচনায় শিশুর ওষুধের মাত্রাও ভিন্ন হয়। ডাক্তার আপনার শিশুর জন্য যেটুকু মাত্রা নির্ধারণ করে দিবেন শিশুকে ঠিক ততটুকুই খাওয়ান। যদি জ্বর ১০০ ডিগ্রীর উপরে চলে যায় তখন নাপা , প্যারাসিটামল এবং ১০২ ডিগ্রির উপর চলে গেলে সাপোজিটরি দেওয়া যায়। সে ক্ষেত্রে জ্বর কিছুটা কমে আসতে পারে। শিশুর চিকিৎসায় ওষুধের পরিমাণ খুব সূক্ষ্মভাবে হিসাব করে খাওয়াতে হবে না হয় ক্ষতি হবার সম্ভাবনা আছে। অবশ্যই শিশুকে যে কোন ওষুধ প্রয়োগের ক্ষেত্রে ডাক্তারি পরামর্শ নিয়ে তারপর দিবেন।

শিশুর জ্বর না কমলে কি করবেন

সাধারণত জ্বর তিন থেকে সাত দিন স্থায়ী হয়। এ সময় জ্বরের সাথে সাথে সর্দি, কাশি ,বমি ,পাতলা পায়খানা এমন নানান উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে জ্বর যদি ১০২ ডিগ্রির উপরে চলে যায় এবং ২৪ ঘন্টায় একদমই না কমে সে ক্ষেত্রে এটি চিন্তার কারন হতে পারে। যদিও প্যারাসিটামল দিলে সাথে সাথে জ্বর কমে না তাই বাচ্চাদের ট্যাপ ওয়াটার বা কুসুম গরম পানি দিয়ে শরীর মুছানো যেতে পারে সারা শরীর ধীরে ধীরে চেপে চেপে মুছতে হবে ।গা শুকিয়ে গেলে আবার মুছতে হবে । অনেক বেশি সময় ধরে জ্বর থাকার কারণে শিশুর শরীর পানি শূন্য হয়ে যায় এমতাবস্থায় শিশু অনেক বেশি নিস্তেজ হয়ে পড়ে। কোন খাবার খেতে পারে না। তাই এ সময় অনেক বেশি পানি খেতে হবে। সাথে ফলের জুস ডাবের পানি আরো অন্যান্য তরল খাবার খাওয়ানো দরকার। প্যারাসিটামল সেবনের তিন চার ঘন্টা পরেও জ্বর না কমলে দ্রুত শিশু বিশেষজ্ঞর পরামর্শ নিন। নিজ থেকে কখনোই এন্টিবায়োটিক দিতে যাবেন না।

লেখক এর মন্তব্য

পরিশেষে বলা যায়, শিশুর জ্বর কোন রোগ নয় বরং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। জ্বর হলে ভয় না পেয়ে ধৈর্য ও সর্তকতার সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করা আসল সমাধান ।সঠিক সময়ে তাপমাত্রা মাপ বা পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবনের মাধ্যমে শিশুকে দ্রুত সুস্থ করে তোলা সম্ভব ।তবে জ্বরের সাথে অন্য কোন অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। সচেতন বাবা-মায়ের সঠিক যত্নই হতে পারে একটি শিশুকে নিরাপদ ও সুস্থ জীবন উপহার দেওয়ার। আশা করছি আমাদের এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনি এবং আপনার শিশু উভয়েই উপকৃত হবেন।
260314

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url